মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ১১ আগস্ট ২০২৬

বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, দগ্ধ চালক

বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, দগ্ধ চালক
ছবি: সংগৃহীত

‎বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে চালক দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আটটি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

‎মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। একটি শিশু রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সটি চত্বরে রাখা হয় এবং এর পরপরই গ্যাস সিলিন্ডারের বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা অ্যাম্বুলেন্সটিকে গ্রাস করে এবং পাশে সারি দিয়ে রাখা আটটি মোটরসাইকেলে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা চালক গুরুতর দগ্ধ হন, যাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে খুলনায় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় হাসপাতালের মূল ভবনটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রমকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক গাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সহকারী পেছনের দরজা খোলার চেষ্টা করছিলেন। সিলিন্ডারের যান্ত্রিক ত্রুটি বা গ্যাস লিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, উপস্থিত সাধারণ মানুষ কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল মালিকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে বা আশপাশে পার্কিংয়ের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ নীতিমালা না থাকায় এই ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের যত্রতত্র উপস্থিতি জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যদি সিলিন্ডারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হতো, তবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

‎ঘটনার প্রেক্ষিতে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ. স. মো. মাহাবুবুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস নিয়ে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগীদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়বদ্ধতা নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থান ও সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

‎এই অগ্নিকাণ্ড সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ফিটনেস এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও অবস্থান কখনোই নিরাপদ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়, বরং সকল অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা ও লাইসেন্স নবায়নে প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োজন। হাসপাতাল চত্বরে অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর স্থানেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে, যা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য একটি অশনি সংকেত।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়