মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ডিআইইউ প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১০ আগস্ট ২০২৬

ডিআইইউ হলে মাদকের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়ার সন্দেহে শিক্ষার্থীকে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ডিআইইউ হলে মাদকের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়ার সন্দেহে শিক্ষার্থীকে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)বিজয় ২৪ হলে (৬ নম্বর) মাদক সেবনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেওয়ার সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও রাতভর একটি কক্ষে অবরুদ্ধ  করে রাখার ও নগদ ১৫০০ টাকা সহ মোট ৩০,০০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক মাদক সেবন করানো, ভিডিও ধারণ এবং মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের (Batch: E-119, Roll: 46) শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ নম্বর হলে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের আব্দুল্লাহ আল বাকী বাধন (Batch - 78B, Roll - 68) নামের এক শিক্ষার্থী ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে মাদক সেবনের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়ার সন্দেহে মারধর করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে একটি কক্ষে রাতভর অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ পিস ইয়াবা সেবনের টাকা হিসেবে তার কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে জোরপূর্বক গাঁজা সেবন করানো হয়। পরে মাদক সেবনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ইয়াসির।

ঘটনার পরদিন সোমবার (১০ আগস্ট) ভুক্তভোগী ইয়াসির আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহকারী প্রক্টর এবং ৬ নম্বর হলের প্রভোস্ট (শাহরিয়ার মাহমুদ মিনার) কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাঁধনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অতি শিগগিরই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ভুক্তভোগীকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাঁধন ও তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

জনপ্রিয়