বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যবিপ্রবির এনএএমই ল্যাবের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

যবিপ্রবির এনএএমই ল্যাবের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ফাইল ছবি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো টেকনোলজি ল্যাব- “ল্যাবরেটরি অব ন্যানো বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএএমই)” এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ ও গুণগত মান নিশ্চিত করায় আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সনদ আইএসও ৯০০১:২০১৫ অর্জন করেছে ল্যাবরেটরিটি। 

আজ মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় যবিপ্রবির স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের ন্যাম ল্যাবের সামনে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ল্যাবটির  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং মানবকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এনএএমই ল্যাব ধারাবাহিকভাবে চমৎকার কাজ করে যাচ্ছে। মানসম্মত গবেষণা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই ল্যাবরেটরি ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশ ও বিদেশে আরও ছড়িয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” তিনি ল্যাবের গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং সকল ধরনের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক উপাদানের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন করে চলেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এনএএমই ল্যাব। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণাগারটি দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যবিপ্রবির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োগ উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এনএএমই ল্যাব। ল্যাবটির সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক মানের খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালগুলোতে সংগৃহীত ১০০ টিরও বেশি গবেষণাপত্রের প্রকাশনা। এছাড়াও ১০০ টিরও বেশি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের অ্যাবস্ট্রক্ট ও প্রায় ৮০০০ সাইটেশন রয়েছে এই ল্যাবের। দেশীয় ১০ টি, বিদেশী ২ টি ও ৩ টি এনজিও এর সাথে যৌথভাবে কোলাবরেশন করে কাজ করে যাচ্ছে এনএএমই ল্যাব।  উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ল্যাবটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির পেটেন্ট বা স্বত্বাধিকার প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছে। ইতোমধ্যে এই গবেষণাগারে ৩০টিরও বেশি ধরনের বিশেষ ন্যানোমেটেরিয়ালস এবং ২০টিরও বেশি উন্নত ন্যানো-কম্পোজিট সফলভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশীয় গবেষকদের জন্য এক অনন্য মাইলফলক।

কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এনএএমই ল্যাবের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ‘স্প্রে-যোগ্য ন্যানো-ইউরিয়া সার’ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্তকরণে ব্যবহৃত ন্যানো-বায়োসেন্সর এবং ইলেকট্রোকেমিক্যাল ডিভাইস তৈরিতেও অগ্রগতি অর্জন করেছে ল্যাবটির গবেষক দল। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০টিরও বেশি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই ল্যাব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে মানবকল্যাণে প্রয়োগ উপযোগী মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা করাই এনএএমই ল্যাবের মূল লক্ষ্য, যা দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। এনএএমই ল্যাবে বর্তমানে ১৭ জন গবেষক ও ২ জন পিএইচডি শিক্ষার্থী রয়েছে।

 

জনপ্রিয়