শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৪, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার জিকেএস স্কলারশিপে যবিপ্রবির এফএমবির তানভীর

দক্ষিণ কোরিয়ার জিকেএস স্কলারশিপে যবিপ্রবির এফএমবির তানভীর
ছবিঃ প্রতিনিধি

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহকে পুঁজি করে দক্ষিণ কোরিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ‘জিকেএস’ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সৌরভ। এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি কুনসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বিসিএসের প্রস্তুতির পথ ছেড়ে গবেষণাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন তানভীর। নিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মঞ্জুরুল হকের দিকনির্দেশনায় গবেষণায় মনোনিবেশ করেন তিনি। স্নাতক পর্যায়ে নিজের ল্যাপটপ না থাকায় সারাদিন ক্লাস ও চার-পাঁচটি টিউশনি করার পর রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের কম্পিউটারে গবেষণার কাজ করতেন।

এ সময় এনএফটি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর এবং কোরিয়ায় পিএইচডিরত সাদেকের সহযোগিতায় স্নাতক শেষ করার আগেই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হিসেবে নিজের প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে সিনিয়রদের গবেষণায় সহায়তা করে মোট পাঁচটি মানসম্পন্ন গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কোনো কোচিং ছাড়াই তিন মাসের প্রস্তুতিতে আইইএলটিএসে ৭.০ স্কোর অর্জন করেন।

তবে স্কলারশিপ পাওয়ার পথটি সহজ ছিল না। ভাইভার সময় ল্যাপটপ নষ্ট হওয়া, গবেষণার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা এবং অর্থায়নের অভাবে চীনের ‘এএনএসও’ ও ‘সিএসসি’ এবং ইউরোপের ‘ইরাসমাস মুন্ডুস’ স্কলারশিপের সুযোগ হাতছাড়া হয়। একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হলেও দমে যাননি তানভীর। চেষ্টা অব্যাহত রাখেন তিনি।

পরবর্তীতে তানভীরের সমৃদ্ধ সিভি, ল্যাব স্কিল ও গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় কুনসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. লি তাকে মনোনীত করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি জিকেএস ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেন।

নিজের এ অর্জন প্রসঙ্গে তানভীর বলেন, হাল না ছাড়ার মানসিকতাই আমাকে আজ এতদূর এনেছে। ছোট ভাই-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রিজেকশন এলেও ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। শর্টকাটে সাফল্য আসে না। ল্যাব স্কিল ও গবেষণার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

জনপ্রিয়