যবিপ্রবিতে মার্শাল আর্ট কোর্সের সমাপনী ও বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) তিন মাসব্যাপী আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আর্ট (উশু) কোর্সের তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী, চতুর্থ ব্যাচের বরণ ও বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এবং জাস্ট স্পোর্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী ও চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। একই সঙ্গে মার্শাল আর্টের রেগুলার ব্যাচের শিশু প্রশিক্ষণার্থীদের বেল্ট ও ব্ল্যাকবেল্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সারা বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের নিয়ে আয়োজিত ‘সিলেট উশু চ্যাম্পিয়নশিপে’ দুটি ক্যাটাগরিতে রৌপ্যপদক অর্জনকারী যবিপ্রবির দুই কৃতী শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাইদুল ইসলাম এবং মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফায়েক মুনতাসীর।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সলিডারিটি কোচেস কোর্সের মূল্যায়ন পরীক্ষায় দেশসেরা এ গ্রেডপ্রাপ্ত সাতজনের অন্যতম হওয়ায় কোচ ইসমাইল হোসাইনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিইএসএস বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।
বিশেষ প্রদর্শনীতে খালি হাতে আত্মরক্ষার কৌশল, লাঠি ও তলোয়ারের ব্যবহার, শিশুদের তাই-চি প্রদর্শন এবং কিকের মাধ্যমে ক্রিকেট স্টাম্প ভাঙার কৌশল দেখানো হয়। ব্ল্যাকবেল্টপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী মো. সাইদুল ইসলাম কিকের মাধ্যমে ক্রিকেটের স্টাম্প ভেঙে দেখান। এ সময় তাঁর কোচ ইসমাইল হোসাইন স্টিলের আরএসএস ফাইভ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত সহ্য করে ফিটনেস প্রদর্শন করেন। পরে সব প্রশিক্ষণার্থী সমন্বিতভাবে তাই-চি প্রদর্শন করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, মার্শাল আর্ট একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থী ও শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল শেখার ক্ষেত্রেও মার্শাল আর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অল্প সময়ে এ দক্ষতা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা অর্জন করতে হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আর্ট শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধৈর্য ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।



























