বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। জর্ডানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টির মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ছোড়া ধাতব অংশ যেসব এলাকায় পড়েছে, সেসব স্থান নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুইবার হামলার চেষ্টা চালায়। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।

এরপরই ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানোর কথা জানায় সেন্টকম। তাদের দাবি, ওমান উপসাগরে থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো নামের চারটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকমের ভাষ্য, হামলার আগে এসব জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।

খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। হামলার পর জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আইআরআইবি। একই সঙ্গে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে জাস্ক বন্দরের কাছেও একটি ট্যাংকারে হামলার খবর দিয়েছে তারা।

ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, দেশটির ‘বেশ কয়েকটি’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, সেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। বন্দরে নোঙর করা কিংবা অবস্থানরত এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা সব তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে। কারণ এসব জাহাজকে ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে এর জবাবে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আবদোল্লাহি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হামলার আগে সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। এ ধরনের কোনো হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেন তিনি।

তবে ইরানের ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান এখনো মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা করছে। তাদের এমন প্রতিটি চেষ্টা বা হামলার জবাবে একটি করে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সংঘাতের প্রভাবে মঙ্গলবার কিছু সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়