যবিপ্রবিতে সীরাত কনটেস্ট ও ওরিয়েন্টেশন সেমিনার অনুষ্ঠিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইসলামিক নলেজ সিকার্স সোসাইটির (আইকেএসএস) উদ্যোগে ‘সীরাত কনটেস্ট অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন সেমিনার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সীরাত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওরিয়েন্টেশন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক নলেজ সিকার্স সোসাইটির সভাপতি তাহসিন আরাফাতের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, গবেষক ও দাঈ আবদুর রহমান বিন আবদুর রাযযাক (হাফি.) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মো. মোখতার আহমাদ।
আলোচনায় অধ্যাপক মোঃ মোখতার আহমাদ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্জিত জ্ঞানকে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। দুনিয়ার জীবনে সফলতার জন্য যেমন জ্ঞান, দক্ষতা ও পরিশ্রম প্রয়োজন, তেমনি আখিরাতের সফলতার জন্য প্রয়োজন ঈমান, আমল ও উত্তম চরিত্র। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের দিকেও মনোযোগী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবনে জ্ঞান, মানবিকতা, সততা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের যে শিক্ষা রয়েছে, তা অনুসরণ করলে একজন মানুষ নিজের জীবনকে সুন্দর করার পাশাপাশি সমাজের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। এজন্য ধর্মীয় জ্ঞানকে সঠিকভাবে বোঝা এবং তা জীবনে প্রয়োগ করা জরুরি। ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য নয় বরং মানুষের চরিত্র সুন্দর করা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। আলোচনা শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
আবদুর রহমান বিন আবদুর রাযযাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে উন্নত চরিত্র ও নৈতিকতার মাধ্যমে। আর তা অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সীরাত অনুসরণ করা। এই সীরাত প্রতিযোগিতা কেবল বিজয়ী হওয়ার আয়োজন নয়, এর মূল উদ্দেশ্য হলো অর্জিত জ্ঞানকে নিজেদের আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবে প্রয়োগ করা। সীরাতের আলোয় জীবন গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শ সমাজ গঠন করা সম্ভব। এসময় সিরাত সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সীরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ হামিদুর রহমান, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ ফরহাদ বুলবুল, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম এম আইয়ুব হোসাইন ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন রশিদ, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভির আহমেদ, এছাড়া ইসলামিক নলেজ সিকার্স সোসাইটির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।



























