প্রবাসে বৈশাখ—নীরব অশ্রুর উৎসব
বছর ঘুরে আবার এলো বৈশাখ। ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন বছরের নাম লেখা হয়, কিন্তু প্রবাস জীবনে সবকিছু কি সত্যিই নতুন হয়ে ওঠে? বাইরে সূর্য ওঠে, দিন শুরু হয় আগের মতোই—কাজ, ক্লান্তি, আর এক টুকরো নিঃসঙ্গতা নিয়ে। শুধু ভেতরের কোথাও যেন হালকা একটা ব্যথা নড়ে ওঠে—আজ বৈশাখ।
এই দিনে দেশের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পরার আনন্দ, মায়ের হাতে পান্তা-ভর্তা, বাবার মৃদু হাসি, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো—সবকিছু যেন বুকের ভেতর এসে জমা হয়। অথচ আজ আমি হাজার মাইল দূরে, অন্য এক দেশের ব্যস্ত শহরে, যেখানে বৈশাখ মানে শুধু একটি সাধারণ দিন।
কাজের ফাঁকে ফোনটা হাতে নিই। ভিডিও কলে দেখি—বাড়িতে সবাই হাসছে, খাচ্ছে, ছবি তুলছে। আমি শুধু স্ক্রিনের ওপার থেকে তাকিয়ে থাকি। হাসার চেষ্টা করি, কিন্তু বুকের ভেতরের শূন্যতা তখন আরও বড় হয়ে ওঠে। কথা বলতে বলতে হঠাৎ গলা আটকে যায়। কেউ বুঝে ফেলার আগেই কলটা কেটে দিই।
প্রবাস জীবনের বৈশাখ এমনই—এখানে আনন্দ আছে, কিন্তু সেই আনন্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে না বলা অনেক কান্না। বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট করে কিছু আয়োজন হয় ঠিকই, কিন্তু সেই হাসির মাঝেও একটা অভাব থেকেই যায়—নিজের মানুষদের অভাব, নিজের মাটির গন্ধের অভাব।
রাতের শেষে যখন সবকিছু শান্ত হয়ে আসে, তখন একা ঘরে বসে মনে হয়—এই যে এত দূরে থাকা, এত কষ্ট সহ্য করা—সবই তো পরিবারের জন্য, ভালো থাকার জন্য। তবুও কিছু কিছু দিন আসে, যেদিন মনে হয়—সবকিছু ছেড়ে ফিরে যাই সেই চেনা জায়গায়, যেখানে বৈশাখ মানেই ছিল নিখাদ আনন্দ।
বৈশাখ আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়, ঠিকই। কিন্তু প্রবাসের বৈশাখ আমাদের এটাও শেখায়—সব আনন্দের মাঝেও কিছু ব্যথা থাকে, যা কাউকে বলা যায় না, শুধু নিঃশব্দে অনুভব করতে হয়।



























