রোববার ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেখ জাহাঙ্গীর আলম

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ১৪ মে ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা ব্যারিস্টার তুষার

যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা ব্যারিস্টার তুষার
ছবি: সংগৃহীত

মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রাজপরিবারের আমন্ত্রণে মর্যাদাপূর্ণ গার্ডেন পার্টিতে অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার কামরুল হাসান তুষার। ঐতিহাসিক Buckingham Palace-এ আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকার সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি প্লাটুনের সাবেক ক্যাডেট ব্যারিস্টার তুষার দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহ সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যে মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেখছেন অনেকে।

জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় তিনি British Red Cross–এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মহামারির কারণে যখন হাজারো মানুষ স্বাস্থ্য সংকট, খাদ্যসংকট ও মানসিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, তখন তিনি অসহায় ও সংকটাপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। বিশেষ করে কোভিড আক্রান্ত পরিবার, একাকী প্রবীণ ব্যক্তি, শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ এবং ঝুঁকিতে থাকা কমিউনিটির সদস্যদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করেন তিনি। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, জরুরি তথ্য সহায়তা, মানসিক সহায়তা প্রদান এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার তুষার। স্থানীয় কমিউনিটিতে তার এসব কার্যক্রম ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ব্রিটিশ সমাজেও প্রশংসিত হয়। অনেকেই মনে করেন, সংকটের সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাই তাকে আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের আয়োজিত গার্ডেন পার্টি যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী বাকিংহাম প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তি, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাই এ আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন।

ব্যারিস্টার তুষারের এ অর্জনকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক প্রতিনিধিত্ব হিসেবেও দেখছেন অনেকেই। কমিউনিটির সদস্যদের মতে, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশির মানবিক কাজের এমন স্বীকৃতি দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকে লিখেছেন, এই অর্জন প্রমাণ করে মানবিক কাজ কখনও মূল্যহীন যায় না।শিক্ষাজীবন থেকেই নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ব্যারিস্টার তুষার। বিএনসিসি প্লাটুনের সাবেক ক্যাডেট হিসেবে তিনি ছাত্রজীবনে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠজনদের মতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তার মধ্যে শুরু থেকেই ছিল। পেশাগত জীবনেও তিনি সেই মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে চলেছেন।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকেও আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে যে, পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কাজ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও বিশ্বব্যাপী মূল্যায়িত হয়।

কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বকে নতুনভাবে শিখিয়েছে—সংকটের সময়ে মানবিক সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কঠিন সময়ে চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, সমাজকর্মী এবং মানবিক সংগঠনের কর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, ব্যারিস্টার তুষারের এই স্বীকৃতি সেই মানবিক প্রচেষ্টাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ব্যারিস্টার তুষারের ঘনিষ্ঠজনদের আশা, ভবিষ্যতেও তিনি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন। তার এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে—নিষ্ঠা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ একসময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এনে দিতে পারে।

জনপ্রিয়