বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের ২ কিলোমিটার গভীরেও প্লাস্টিক দূষণ

বঙ্গোপসাগরের ২ কিলোমিটার গভীরেও প্লাস্টিক দূষণ
ছবি: সংগৃহীত

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাগরের প্রায় দুই হাজার মিটার (দুই কিলোমিটার) গভীরতায়ও প্লাস্টিক দূষণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এই গবেষণায় নতুন করে ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কমিটি এই জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। বৈঠকে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন,“বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে, যা ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট লক্ষণ। অতিরিক্ত মাছ ধরার (ওভারফিশিং) কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাগরের দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

২০১৮ সালে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। শুধু গভীর সমুদ্রেই নয়, স্বল্প গভীর সমুদ্রেও আশঙ্কাজনক হারে মাছের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এ সময় সোনার ফিশিং নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন,

“এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিংয়ের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের ডিপ সি ফিশিং এলাকায় টুনা মাছের আধিক্য রয়েছে এবং সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিশিং নার্সারি শনাক্ত করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের দেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও রয়েছে। অথচ এই বিপুল সম্পদ আমরা এখনও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। এমনকি এই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও সম্ভাবনাও পুরোপুরি জানা নেই। এসব সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে ব্যাপক গবেষণা ও কার্যকর নীতি সহায়তা প্রয়োজন।”

তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন,

“সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। যাঁদের এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে, তাঁদের সঙ্গে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

জনপ্রিয়