শুক্রবার ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইসরাইল পশ্চিম তীরে ‘বর্ণবৈষম্য’ করছে : জাতিসংঘ

ইসরাইল পশ্চিম তীরে ‘বর্ণবৈষম্য’ করছে : জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক নীতি ও বিভাজনমূলক ব্যবস্থা দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের তথাকথিত ‘বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা’ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত বৈষম্য ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার ধারাবাহিকভাবে সংকুচিত করা হচ্ছে। তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ধাপ ইসরাইলের বৈষম্যমূলক আইন ও নীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তিনি বলেন, পানি সংগ্রহ, শিক্ষা গ্রহণ, চিকিৎসা সেবা পাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা জলপাই সংগ্রহ— সব ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিনিদের ওপর নানা ধরনের বাধা আরোপ করা হচ্ছে। এসব বিধিনিষেধ একটি গুরুতর জাতিগত বৈষম্য ও বিভাজনের প্রতিফলন, যা অতীতের বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

এর আগে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতিকে ‘বর্ণবৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান সরাসরি এই শব্দটি ব্যবহার করলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা আইন ও নীতি কার্যকর রয়েছে। ফলে জমির মালিকানা, চলাচল, বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনিরা নিয়মিতভাবে জমি ও সম্পদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেককে জোরপূর্বক বাড়িঘর ও জমি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামরিক আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হচ্ছে, যেখানে ন্যায্য বিচার ও আইনি সুরক্ষার অধিকার পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

ভলকার তুর্ক ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতি, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে সব আইন, নীতি ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

মানবাধিকার কার্যালয় জানায়, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সহিংসতা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর নীরব সম্মতি বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ঘটছে।

১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। একই সঙ্গে সেখানে ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা কিংবা সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৪ জন ইসরাইলি সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়