গ্রিনল্যান্ডের দাম ১০০ কোটি ডলার হতে পারে: পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা কার হাতে থাকবে—তা রাশিয়ার জন্য কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের নিজেদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ডেনমার্কের ঐতিহাসিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মস্কো বেশ আগ্রহের সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও বিষয়টির প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়তে পারে, কারণ আর্কটিক অঞ্চলে দেশটির শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও, গতকাল সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে কোনো সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে না। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চুক্তি হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গত কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ফাটল সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই ইস্যুতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে গিয়ে পুতিন ইঙ্গিত দেন, গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রাশিয়ার কোনো আপত্তি নেই। তার ধারণা, দ্বীপটির মূল্য হতে পারে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে কী ঘটছে বা না ঘটছে—তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কার্যত একটি উপনিবেশ হিসেবে দেখেছে এবং তাদের প্রতি কঠোর, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি একটি ভিন্ন প্রসঙ্গ এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই।
এদিকে ইউক্রেনকে ডেনমার্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজেদের অংশ বলে দাবি করার পর থেকে সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প একসময় মন্তব্য করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে রাশিয়ারও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনা এড়িয়ে যায়। কারণ, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এমনকি এ বিষয়ে রাশিয়া তার দাবির প্রতি কিছুটা সহানুভূতিও দেখিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ গত মঙ্গলবার বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই বিশাল দ্বীপটি ডেনমার্কের কোনো ‘স্বাভাবিক অংশ’ নয়।
পুতিন ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র ৭২ লাখ ডলারে বিক্রি করেছিল। একইভাবে ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক ভার্জিন আইল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে। ফলে ভূখণ্ড কেনাবেচার নজির আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আগেও রয়েছে।
আলাস্কার সেই সময়কার মূল্যকে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল আয়তন ও সোনার বর্তমান দাম বিবেচনায় নিয়ে পুতিন বলেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার লাগতে পারে। তার মতে, ওয়াশিংটনের সেই সামর্থ্য রয়েছে।
সবশেষে পুতিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি মিটিয়ে নেবে।’



























