কারাগারের মধ্যে বন্দিকে গাছে বেঁধে বেদম মারধর, ভিডিও ভাইরাল
ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি কারাগার থেকে ফাঁস হওয়া নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারা হেফাজতে বন্দিদের ওপর অমানবিক আচরণের ভয়াবহ দৃশ্য সামনে আসার পর প্রশাসনের দায়বদ্ধতা, কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ গোপন থাকার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার চাচোড়া উপ-কারাগারের ভেতরে ধারণ করা বলে দাবি করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাছে বেঁধে রাখা এক বন্দিকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করছেন কারাগারের এক সাব-জেলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই সাব-জেলারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বন্দিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল। কারাগারের ভেতরে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বন্দিদের পরিবার থেকেও অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এনডিটিভির একটি দল চাচোড়া উপ-কারাগারে গেলে সেখানে নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওতে দেখা সাব-জেলারকে সেখানে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি গত তিন থেকে চার দিন ধরে ছুটিতে রয়েছেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপ-বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রবি মালভিয়া জানান, তিনি তিন দিন আগে গণমাধ্যমের মাধ্যমে ভিডিওটির কথা জানতে পারেন। তিনি বলেন, “ভিডিওটির সত্যতা যাচাই এবং সময়কাল নিশ্চিত করার জন্য এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্যাতনের ঘটনার পাশাপাশি আরও একটি গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে—উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন প্রবেশ করল কীভাবে? কে এই ভিডিও ধারণ করল এবং কেন সেটি মাসের পর মাস গোপন রাখা হলো?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে আরেকটি তদন্ত শুরু করেছে। কারাগারের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না এবং ভিডিওটির উৎস কোথায়— তা শনাক্ত করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।



























