বাংলাদেশের আকাশে ভারতের স্পাইসজেটকে নিষেধাজ্ঞা
বকেয়া নেভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় ভারতীয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পাইসজেট–এর জন্য আকাশসীমা ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সংস্থাটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে উড়ান পরিচালনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং বিমানগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশসীমা ব্যবহারের ফি বাবদ স্পাইসজেটের কাছে বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও সংস্থাটি সেই বকেয়া পরিশোধ করেনি। ফলে তাদের জন্য বাংলাদেশের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকেই স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘতর রুটে চলাচল শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তর–পূর্বাঞ্চলগামী উড়ানে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফল–গামী ফ্লাইটগুলোকে এখন ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে উড়ানের সময় বেড়েছে এবং যাত্রীদের বিমানে অতিরিক্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটি একটি নিয়মিত ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া। সংস্থার দাবি, সব ফ্লাইট স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি। গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যে দৈনিক ৩০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে সংস্থাটি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে।
স্পাইসজেটের চিফ বিজনেস অফিসার দেবজো মহর্ষি বলেন, গত ত্রৈমাসিকে সংস্থাটি তাদের সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে, যা ব্যবসার প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তিনি জানান, যাত্রীদের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে পরিষেবা উন্নত করাই তাদের লক্ষ্য।
এ ঘটনায় শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়েছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ–এ বৃহস্পতিবার স্পাইসজেটের শেয়ারের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৮১ রুপিতে নেমে আসে। এর আগে গত ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটি ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি লোকসানের তথ্য জানিয়েছিল।
যদিও দীর্ঘ রুট ব্যবহারের কারণে উড়ানের সময় বেড়েছে, স্পাইসজেট বলছে এতে যাত্রী নিরাপত্তা বা সময়সূচিতে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।



























