মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

আন্তর্জা‌তিক‌ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধবারও ছুটি শ্রীলঙ্কায়

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধবারও ছুটি শ্রীলঙ্কায়
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ একের পর এক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

এরই অংশ হিসেবে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা—জ্বালানি সাশ্রয়ে সপ্তাহে একদিন সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতি বুধবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। 

দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে জ্বালানি সংরক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সোমবার (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আমরা ভালোর আশা করছি।’

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ায় লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলো আগেভাগেই জ্বালানি সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই গেছে এশিয়ার দেশগুলোতে, যা এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরতার মাত্রা স্পষ্ট করে।

শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

থাইল্যান্ডে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে নাগরিকদের স্যুটের পরিবর্তে হালকা পোশাক, বিশেষ করে হাফ হাতা টি-শার্ট পরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে জোড়-বিজোড় নীতি চালু করা হয়েছে। লাইসেন্স প্লেট নম্বর অনুযায়ী একদিন পরপর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে।

ফিলিপাইনে সরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে রিকশাচালক, কৃষক ও জেলেদের জন্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার পেসো পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম সরকার নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমাতে বলেছে। এর পরিবর্তে সাইকেল চালানো বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এশিয়ার দেশগুলো আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।