ঈদে পদ্মা, যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুতে ইটিসি কার্যক্রম জোরদার
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে পদ্মা বহুমুখী সেতু, যমুনা সেতু ও মুক্তারপুর সেতুতে যানবাহনের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
সভাপতির বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে টোল প্লাজাগুলোতে ইটিসি লেনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। চালকরা যাতে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই টোল পরিশোধ করে দ্রুত সেতু পার হতে পারেন, সে লক্ষ্যে ইটিসি লেনগুলো শতভাগ কার্যকর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ইটিসি সিস্টেম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিআরটিএ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দ ও মালিকদের প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় দ্রুত সব বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনে আরএফআইডি ট্যাগ স্থাপন ও নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এজন্য বাসস্ট্যান্ডগুলোতে সমন্বিত সেবা বুথ স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া যাত্রীরা যাতে সহজে টোল অ্যাকাউন্ট রিচার্জ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রিচার্জ সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টোল প্লাজায় দীর্ঘ যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই ইটিসি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঈদে পদ্মা, যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুতে যানজটমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব), পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দ, পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সেতুগুলোর সাইট অফিসের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি তুলে ধরেন।



























