সোমবার ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ২৩ মার্চ ২০২৬

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, সব ডিসি-এসপিকে চিঠি

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, সব ডিসি-এসপিকে চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশেষ করে ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পেট্রোল পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না, ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল উত্তোলনও সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে অনেক পাম্পে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক খুললে পে-অর্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ব্যাংক চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে তেল না পেয়ে অনেক স্থানে পাম্পে ভিড় বাড়ছে, যার ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় স্টেশন স্টাফদের মারধর এবং ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন থেকে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ডিপোগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্রমবর্ধমান ভিড় এবং উত্তেজনার কারণে পাম্পের কর্মচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিং স্টেশন চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রয়োজন হলে নিজ নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে পাম্প পরিচালনার বিষয়ে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করা হলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয় সরকার। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট এখনও কাটেনি।

এর আগে, রবিবার রাতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে সতর্ক করা হয় যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেকোনো সময় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ব্যাংক কার্যক্রম শুরু হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে।