রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০, ৯ আগস্ট ২০২৬

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

গাজার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (০৮ আগস্ট) উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে চলমান ধীরগতির অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা এটি। তবে ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

গাজার পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবনটিতে টানা চার দিন ধরে তল্লাশি চালানোর পর অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকাজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান।

তিনি জানান, এখন বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা গাজা সিটির অন্য একটি এলাকায় যাবেন। সেখানে নতুন করে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ ও জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালানো হবে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে সাধারণ সরঞ্জাম এবং শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভর করছেন। ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর মতো প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি তাদের হাতে নেই।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো উপত্যকায় এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত, ৪ হাজার ১২১ জন আহত এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।

নতুন এই উদ্ধার অভিযান এমন সময় হলো, যখন গত মঙ্গলবার গাজা সিটিতে ১১২ জনের মরদেহ নিয়ে একটি গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ার পর সেখান থেকে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ওই সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারের কাজ মূলত ধীরগতিতে এবং হাতে-কলমে চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে।

জনপ্রিয়