সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যমান বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বা পরবর্তী কোনো বিবাহে আবদ্ধ হওয়া যাবে না—মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর এমন বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। 

এ সংক্রান্ত একটি রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারা বহাল থাকল।

এর আগে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বহুবিবাহ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেন। 

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বহুবিবাহ বিষয়ে বিদ্যমান আইন বহাল থাকল। তবে তিনি বলেন, এই রায়ে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইশরাত হাসান আরও বলেন, ইসলামি আইনে একাধিক বিবাহের অনুমতি থাকলেও সবার প্রতি সমান ও ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কেবল চারটি বিবাহের অনুমতির অংশ গ্রহণ করে ন্যায়বিচারের শর্ত উপেক্ষা করা যায় না। এ বিষয়ে আইনে আরও সুস্পষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে—বিদ্যমান বিবাহ বলবৎ থাকাকালে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া কেউ নতুন বিবাহে আবদ্ধ হতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন বিবাহ নিবন্ধনযোগ্য নয় এবং এমন বিবাহ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেনমোহরের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধসহ কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।