শুক্রবার ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৮, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুরের রস খাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুরের রস খাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

শীতকালে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশেষভাবে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, ২০২৫ সালে চারজন নিপাহ আক্রান্ত রোগীর সবাই মারা গেছেন। এই ঘটনার মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের একটি শিশু দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি কেস’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে ঘটেছে।

নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব দ্বারা দূষিত খেজুরের কাঁচা রস খেলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া নেশাজাতীয় পানীয় ‘তাড়ি’ এবং আধা খাওয়া ফলও সংক্রমণের উৎস হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের বুকের দুধেও ভাইরাস পাওয়া গেছে, যা বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা।

সংক্রমিত হলে সাধারণত ৫–৭ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা, ঘুমঘুম ভাব, বমি, ঝিমুনি ও অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। রোগী মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ভুগতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণও ঘটে। প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত থেকে অন্য ব্যক্তিতে ভাইরাস ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে।

সতর্কতা ও প্রতিরোধ:

  • খেজুরের কাঁচা রস একেবারেই পান করা যাবে না।
  • খেজুরের গুড় ব্যবহার নিরাপদ বিকল্প।
  • ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে, বিশেষ করে টমেটো, পেয়ারা, বরই জাতীয় ফল।
  • গাছের নিচে পড়ে থাকা বা ফাটা ফল পরিহার করতে হবে।
  • শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সচেতন থাকা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেছেন, “২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নিপাহ এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা বছর বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।”

নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী। বর্তমানে এর বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধই একমাত্র নিরাপদ উপায়।

জনপ্রিয়