শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

কোটা নিয়ে ফারুকীর সঙ্গে মতভিন্নতাই আফসানার কাল হল?

কোটা নিয়ে ফারুকীর সঙ্গে মতভিন্নতাই আফসানার কাল হল?
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্বে আসার পর বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কার করতে চেয়েছিলেন লেখক আফসানা বেগম। যেন অযোগ্য বই সরিয়ে ভালো বই নেওয়া হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। এজন্য নীতিমালা সংশোধন করে, সচিব ও মন্ত্রী কোটা ২০ শতাংশ তুলে দিয়ে ১০০ শতাংশ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে আনতে চেয়েছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা।

কিন্তু তাতে সম্মতি ছিল না সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।

আফসানা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে চার পর্বের ফেইসবুক পোস্টে উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ক কথোকপথন প্রকাশ করেছেন।

পোস্টে আফসানা বেগম লেখেন, "ফারুকী ভাই কথা বলা শুরু করেন, ‘কোটা থাকুক। পরবর্তী সরকার এসে ব্যবহার করবে। এটা ওদের লাগবে।’ আমি চমকে উঠি, ভাই, কী বলেন, কোটা কেন থাকবে, কোটার জন্যেই না…।"

চব্বিশের অভ্যূত্থানের পরে ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় আফসানা বেগমকে। তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনুরোধেই তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার আফসানা বেগমকে হুট করেই অব্যহতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আফসানা বেগমের স্থলভিষিক্ত হয়েছেন এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ, যিনি কবি সাখাওয়াত টিপু নামে পরিচিত।

আফসানা বেগম দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর বই নির্বাচন নীতিমালা সংশোধনে হাত দিয়েছিলেন। আফসানা ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেন, তখন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তাকে বলেছিলেন- "নীতিমালা এমন হবে, যেন ভালো ভালো বই নেয়া যায়। আর অযোগ্য বই প্রত্যাহার করা যায়।"

নীতিমালা শুধুমাত্র অনুমোদনের কাজ বাকি, আর তখনই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তন হয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্বে আসেন।

আফসানা বেগম লেখেন, "নীতিমালার পুরো বিষয়টা উনাকে (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) বোঝানোর চেষ্টা করি, আসিফ ভাইয়ের (আসিফ নজরুল) মেইলগুলো পাঠাই, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাই না। শেষে অনেক অনুরোধের পরে একদিন একটা বড়ো কমিটি বসে। উপকমিটি সরাসরি নীতিমালা অনুমোদনের কাজ করবে বলে জানায়।

"তখন সমস্যা হয় ওই মন্ত্রী, সচিব ২০% কোটায়। এটা থাকবে কি থাকবে না সে নিয়ে ফারুকী ভাই আমার সাথে বসতে চান। কিন্তু কোনোভাবেই তার সময় পাওয়া যায় না। এ নিয়ে দিনের পর দিন সময় দিয়ে, অফিসে বসিয়ে রেখে উনি মিটিং বাতিল করেন। শেষে একদিন ঘর ভরা লোকের মাঝখানে উনি আমাকে কথা বলতে দেন।

"আমি বলা শুরু করি, কোটা না থাকলে কার্যকর লাইব্রেরি অনেক বেশি টাকা পাবে। তাদের খুব উপকার হবে। অন্যদিকে খারাপ বইয়ের বোঝা কমবে। কারণ নীতিমালা অনুযায়ী কোটায় কোনো বই নির্বাচন পদ্ধতি (ক্যাটালগ জমা নেয়া, বই বেছে নেয়া) অনুসরণ করা হয় না। আবার কোটায় আসা লাইব্রেরিরও কোনো পরিদর্শন রিপোর্ট লাগে না। যারাই সচিব বা মন্ত্রীকে পটাতে পারেন, তাদেরই লাইব্রেরি নির্বাচিত হয়। সাধারণ তালিকায় হিসাবের নিয়ম থাকলেও কোটার অধীনে যত ইচ্ছা তত কপি বই, যত ইচ্ছা তত টাকা অনুদান যায় লাইব্রেরিতে। অযোগ্য অপাঠ্য বইগুলো তখন সাধারণ লাইব্রেরিকে জোর করে নিতে হয়।"

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তো বটেই, বহু সরকারি কর্মকর্তার বই নেওয়া হত বলেও লিখেছেন আফসানা।

তিনি ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, "একজন অতিরিক্ত সচিবের লেখা, ‘আমার স্ত্রীর জন্মদিনে লেখা ৫০ কবিতা’ বইটি, প্রচ্ছদে স্ত্রীর ছবি। এই বই গ্রন্থকেন্দ্র এক হাজার কপি কিনেছিল।"

আগের আওয়ামী আমলের মত একটি পেপার কাটিংসম্বলিত একটি বইয়ের দাম ১৫,০০০টাকা, অনেক চাপ আসার পরেও সেই বই নিতে বাধা দিয়েছেন বলে পোস্টে লিখেছেন আফসানা।

তার ভাষ্য, "আগে হাসিনার লেখা বই একেকটি ৭,০০০-৩০,০০০ টাকায় পর্যন্ত কিনেছে গ্রন্থকেন্দ্র। বিশেষ কোটায়।

“যে কোনো মূল্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মানহীন বইয়ের বিপক্ষে আমার অবস্থান ছিল।“

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম