শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১২, ৬ মার্চ ২০২৬

উচ্ছেদ অভিযানের পর ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

উচ্ছেদ অভিযানের পর ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার-এ সমুদ্রসৈকত দখলমুক্ত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের চলমান অভিযানের পর তাদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে “ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন।

সম্প্রতি সৈকত এলাকায় অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও অনুমতিহীন অস্থায়ী দোকান স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিচ এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একটি স্থানীয় পত্রিকায় “পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও নেওয়া হয়নি—যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

রিজিয়ন প্রধান বলেন, “চলমান উচ্ছেদ অভিযানে একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করুন—আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

সাম্প্রতিক এক অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তাদের দাবি, বিচ দখল সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি ও কথিত সাংবাদিক সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের কিছু অংশে অবৈধ দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল। এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন,
“অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কারণে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছিল। এতে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে তা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন,
“সামাজিক মাধ্যমে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

আইন বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের ক্ষেত্রে মানহানি ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত আইন প্রযোজ্য হতে পারে। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পর্যটক নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব কার্যক্রম সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সমুদ্রসৈকত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। অবৈধ দখলমুক্ত হলে পর্যটক ও স্থানীয়রা উপকৃত হবেন। তবে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তে যাচাই হওয়াই উচিত।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটননগরী কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও স্থানীয় সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। এখন অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে চূড়ান্ত সমাধান।

সর্বশেষ