ইবি শিক্ষিকা হত্যায় প্রশাসনের শোক, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। বিজ্ঞপ্তিতে মরহুমা আসমা সাদিয়া রুনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী শনিবার (৭ মার্চ) একদিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম আশরাফ আলী খান।
দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবাইদুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনেয়ার পারভেজ, আহ্বায়ক সদস্য রাফিজ আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক গোলাম রাব্বানীসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলেই যেকোনো ব্যক্তিকে ভাষা হারিয়ে ফেলতে হয়। সহকর্মী হিসেবে এরকম একজন বিনয়ী মানুষ আমি আগে কখনো দেখিনি। আমরা একজন খুবই আদর্শ শিক্ষক এবং আদর্শ মানুষকে হারিয়েছি। এই ক্ষত আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের কাছে জানাচ্ছি, হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, হাদিসের ভাষায় তিনি শহীদ। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন।”
এছাড়া শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে স্মরণীয় করে রাখতে সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।



























