সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ মৃত্যু, বেড়েছে দৈনিক প্রাণহানি

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ মৃত্যু, বেড়েছে দৈনিক প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমার বদলে আরও বেড়েছে। গত আগস্টে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৬৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছেন। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড় প্রাণহানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আগস্টে দৈনিক গড় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ জন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

আগস্টে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ১৮৩টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৬ জন, যা ওই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ১০২ জন, যা মোট প্রাণহানির ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন। মোট নিহতের হিসাবে তাদের হার ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে আগস্টে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৬ জন, বাসের যাত্রী ৩৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, লরি ও ড্রাম ট্রাকের আরোহী ৫১ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপের ১১ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২১ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আগস্টে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এ ধরনের সড়কে ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। মোট দুর্ঘটনার হিসাবে এর হার ৩৮ শতাংশ। পাশাপাশি ১২৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৭৮টি পেছন থেকে আঘাত এবং আটটি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭৪৯টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৯৪টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি, ট্রাক ১০৮টি এবং বাস ১০৩টি।

বিভাগের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। ওই বিভাগে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন।

একক জেলা হিসেবে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়া জেলায়।

রাজধানী ঢাকায় একই সময়ে ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি আগস্টে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, একই সময়ে ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ঘটছে। এর পাশাপাশি বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা এবং অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টাকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এ ছাড়া মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

একই সঙ্গে মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালুর পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। চালকদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়