মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:২০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ কত?

দেশে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ কত?
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত হবে এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কীভাবে তা বণ্টন করা হবে, সেই আইনি প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতাধীন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এতে আইনগত জটিলতা থাকবে না।

এদিকে শেখ হাসিনার নামে দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার নিজের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ওই হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার হাতে নগদ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর ছিল।

হলফনামায় শেখ হাসিনার নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব গাড়ির আর্থিক মূল্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। তার মালিকানাধীন স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর আসবাবপত্রের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে শেখ হাসিনার নামে রয়েছে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য হলফনামায় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে। ওই প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমিও তার নামে রয়েছে। এই সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এখন এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার প্রক্রিয়াই সামনে এসেছে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়