মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১১, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র বাঁচাতে গণমাধ্যম বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্র বাঁচাতে গণমাধ্যম বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বখতিয়ার রাণা (কোষাধ্যক্ষ), কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর সবচেয়ে দুঃসময়ে প্রেস ক্লাবের নেতারা পাশে ছিলেন, যা তিনি বিরাট প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি, একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।

রাষ্ট্রপতি জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন পরে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোকেও জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান। সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে রাষ্ট্রপতি পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়