বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

আজ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ইউএনএফপিএর কারিগরি সহায়তায় এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘থ্রি ডিভিডেন্ডস, ওয়ান উইন্ডো: আ পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত নীতি ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন উন্নয়নের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অসংখ্য সুযোগ তৈরি হবে। তরুণদের দক্ষতা এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনপ্রতিনিধিরা পলিসি লেভেলে কাজ করেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনসংখ্যা তৈরি এবং মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক জানালা কাজে লাগাতে আলাদা আলাদা নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ: সম্ভাবনা, সময় ও ঝুঁকি’ শীর্ষক বিষয়ে মূল আলোচকরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সংসদ-সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়