শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:২৪, ২ অক্টোবর ২০২৬

ওএমএসের চাল-আটা নিতে ভোর থেকে লাইন, বরাদ্দ সংকটে বিশৃঙ্খলা

ওএমএসের চাল-আটা নিতে ভোর থেকে লাইন, বরাদ্দ সংকটে বিশৃঙ্খলা
ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে ওএমএসের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রিকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চাল-আটা না পেয়ে ফিরে গেছেন। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েক দফা হাতাহাতি ও কাড়াকাড়ির ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর বৈরাগীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওএমএসের মাধ্যমে জনপ্রতি পাঁচ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে এবং পাঁচ কেজি চাল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা। ট্রাক সেলের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার পর সকাল ৬টা থেকেই শত শত নারী-পুরুষ সেখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাল, ডাল, তেল ও আটার দাম লাগামহীন বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ওএমএসের পণ্য কেনার আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে চাল-আটা পাননি। তাদের অভিযোগ, ওএমএসের ডিলার সকাল থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত নারী-পুরুষদের না দিয়ে পছন্দের লোকজনের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। পরে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পণ্য বিক্রি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়। এ ঘটনায় চাল ও আটা নিতে লাইন ধরে অপেক্ষামান মানুষের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে নগরীর বৈরাগীপাড়া এলাকায় দেখা যায়, ট্রাকের সামনে শত শত নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছেন। একটি লাইনের পরিবর্তে কয়েকটি লাইন তৈরি হওয়ায় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই চাল ও আটা বিতরণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মমতাজ বেগম বলেন, ‘আটা আর চাল না পেলে বাসায় রান্না হবে না। ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন দুপুর ২টা বাজে, এখনও চাল-আটা পাইনি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এটা ডিলারের কারসাজি। চাল-আটার দাম তো বাড়ছেই। আমরা গরিব মানুষ। ২৪ টাকা কেজি দরে আটা আর ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি করে চাল পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়েও না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এখানে দেখার কেউ নেই।’

বৈরাগীপাড়ার সুজা মিয়া বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। লাইন আর শেষ হয় না। যেখানে একটি লাইন হওয়ার কথা, সেখানে চারটি লাইন। কাকে দেওয়া হচ্ছে, কারা পাচ্ছে, জানি না। আমি বয়স্ক মানুষ। আড়াইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চাল-আটা পাইনি।’ একই অভিযোগ করেন নুরপুর, স্টেশন, আলমনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আরও অনেকে।

তবে ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা ডিলারের ম্যানেজার রমজান আলী বলেন, ‘আমরা এক টন চাল ও এক টন আটা বরাদ্দ পেয়েছি। এতে ২০০ জনকে দেওয়া সম্ভব। অথচ লাইনে অপেক্ষা করছে ৫০০ থেকে ৬০০ নারী-পুরুষ। বরাদ্দ বাড়ালে আরও অনেককে দেওয়া যেত। আমাদের করার কিছু নেই।’ তবে চাল-আটা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারসাজির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের তদারককারী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্যে চাল-আটা নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও অনেককে পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়