যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, বিএনএসএস ১৬৩ ধারা জারি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভের আয়োজকেরা ভোটার তালিকা ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এই ধারার আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্লোগান দেওয়া ও জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তবে দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। পুলিশের ধারণা করেছিল, এই বিক্ষোভে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে যন্তর মন্তরসহ নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আদেশে আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, লাঠি, তলোয়ার, ইটসহ এ ধরনের যেকোনো সামগ্রী বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক, দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আদেশটি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অননুমোদিত কোনো সমাবেশ বা নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
শর্মা বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মিছিল বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অনুমতি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাইকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় জনগণকে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নিতে ওই এলাকায় না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কয়েকটি সংগঠনও নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হওয়ায় কংগ্রেসের যুব শাখাও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে আম আদমি পার্টি (এএপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের ঘোষণার পর শুক্রবার দিল্লি মেট্রো ১১টি স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে—সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, যন্তর মন্তর, জনপথ, প্যাটেল চক, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মন্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়াদিল্লি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ থাকবে।



























