বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহদী আমিন

সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

বৈঠকে ইপিজেডগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কর্মসংস্থানে তাদের অবদান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সার্বজনীন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’

সফররত প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তাদের সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নবনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ অনুমোদন করেছে।

শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শ্রম বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর করা হবে।’

শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এ দুটি বিষয় একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিল্পখাতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমখাতে সাম্প্রতিক সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়