অপারেশনের টাকার চিন্তায় বাবার ছুটে আসা, আবিরের পাশে গাজীপুরের ডিসি
চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। অসুস্থ ছোট্ট সন্তান আবিরের অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতে না পেরে অসহায় বাবা শহিদুল ছুটে এসেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। একমাত্র চাওয়া—সন্তানের চিকিৎসার জন্য একটু সহায়তা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়ার কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান শহিদুল। সন্তানের অসুস্থতার কথা শুনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন জেলা প্রশাসক। আবিরের চিকিৎসার জন্য এর আগেও ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছিলেন তিনি। অপারেশনের জন্য আবারও অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এবার আরও ১৫ হাজার টাকা সহায়তা করেন জেলা প্রশাসক।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শহিদুল বলেন, “ডিসি মহোদয় আমার বাচ্চা আবিরের অসুস্থতার কথা শুনে আগে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আজ আবার অপারেশনের কথা বললে উনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ১৫ হাজার টাকা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ উনার নেক হায়াত দান করুক।”
আবিরের চিকিৎসার জন্য বাবার এই ছুটে চলা এবং জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সহায়তার ঘটনাটি বুধবারের গণশুনানিতে মানবিক এক আবহ তৈরি করে।
প্রতি বুধবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও অসহায় মানুষজন সপ্তাহের অন্যান্য দিনও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। বুধবারের গণশুনানিতেও আবিরের বাবার মতো শত শত মানুষ নিজেদের নানা সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে অপেক্ষা করেন।
এদিন ৬৫ বছর বয়সী নাজমা আক্তার নিজের ও স্বামীর অসুস্থতার কথা জানাতে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। তার কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।
এ ছাড়া ৪০ বছর বয়সী বিধবা দীপু রানী আসেন মেয়ের অধিকার নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরের জমি থেকে তার একমাত্র মেয়েকে মৃত স্বামীর তিন ভাই বঞ্চিত করছেন। তার বক্তব্য শুনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া বলেন, “গণশুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে সপ্তাহের প্রতি বুধবার, কিন্তু প্রতিদিনই অসহায় মানুষজন আসছেন। তাদের কথা শুনতে হয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছি।”
তিনি জানান, জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের জন্য সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত হৃদরোগসহ সাতটি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যোগ্য রোগীদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সরকারি সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণশুনানিতে আবিরের বাবার হাতে আবারও ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘটনাটি উপস্থিত মানুষের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। সন্তানের চিকিৎসার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এক বাবার পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সহায়তা যেন সরকারি সেবার পাশাপাশি মানবিকতারও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



























