ইতিহাসের ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার দিনে বা এক হাজার বছরে একজনই বঙ্গবন্ধু
আমি সাকিব আল হাসান। আজ আমি পরিপূর্ণ স্বাধীন। তবে এই স্বাধীনতার ইতিহাস অল্প দিনের। আমার বাবার জন্মও হয়েছিল এক পরাধীন, নিয়ন্ত্রিত দেশে। তবে আমার জন্ম হয়েছিল এক পূর্ণ স্বাধীন দেশে। তার আগের এক হাজার বছর আমাদেরকে শাসন করেছে, নিয়ন্ত্রণ করেছে ভিনদেশি কিছু শক্তি। আমি সৌভাগ্যবান। হাজার বছরের কাঙ্ক্ষিত মুক্ত বাতাসে আমার জন্ম হয়েছিল।
আমাদেরকে ২৪ বছর শোষণ করেছে পাকিস্তানি বিকৃত মস্তিষ্কের শাসকগোষ্ঠী- জিন্নাহ, ইয়াহিয়া, আয়ুব খানরা।
তার আগের ১৯০ বছর শোষণ করেছে ইউরোপীয় বনিকেরা - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ব্রিটিশরা সাম্রাজ্য।
তার আগে ১৮১ বছর বাঙালিকে শাসন করেছে মোঘল সম্রাটরা। দিল্লি থেকে এই অঞ্চলে আকবর, জাহাঙ্গীর, আওরাঙ্গজেবরা হুকুমের জারি করে বাংলার সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। কর-খাজনার জন্য নিপীড়ন করত।
তার আগে ২০০ বছর বিভিন্ন রাজবংশের অবাঙালি সুলাতানরা একেক সময় একেকজন বাংলা শাসন ও শোষণ করেছে। এদের মধ্যে আফগান যোদ্ধা শের শাহ, তুর্কী ইলিয়াস শাহী, গেনেশ শাহ । আফ্রিকান দাস সেনাপতি হাবসিরা অন্যতম।
তার আগে প্রায় ১৬০ বছর বাঙালিকে শোষণ করে দিল্লি সুলতানাত। মামলুকি বংশ, তুঘলক বংশ, খলজি বংশ। এখানকার সম্পদ দিল্লিতে নিয়ে তারা শাসন কার্য পরিচালনা করত।
এর আগে প্রায় ২০০ বছর দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চল থেকে আগত সেন বংশ এই বাংলা শাসন ও শোষণ করে।
এই দীর্ঘ এক হাজার বছরে আমরা খুঁজেছি আমাদের আপন নেতা, একজন বাঙালির সন্তান, যে আমাদের মুক্তি দেবে। আমরা চেয়েছি অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে মুক্তি। আমরা চেয়েছি আমাদের নিজেদের নেতৃত্ব, নিজেদের রাষ্ট্র, নিজেদের মর্যাদা।
এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই যুগে যুগে বাংলার মানুষ ভিনদেশিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, প্রতিবাদ করেছে, প্রতিরোধ গড়ে তুলার চেষ্টা করছে।
দীর্ঘ হাজার বছরে এই মাটিতে শত শত ফজলুল হক, ডজন খানেক কেদার রায়, সোহরাওয়ার্দী, মোহনলাল, সুভাষ বসু, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ভাসানী, তিতুমীর, ক্ষুদিরাম সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এদের কেউই বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন - কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা এনে দিতে পারেননি।
এই মাটিতে যুগে যুগে শাসকের রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে ফরায়েজি আন্দোলন, ফকির বিদ্রোহ, কৃষক আন্দোলন, দেশ ভাগের আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু সঠিক নেতা, সংগঠক, সঠিক রাজনৈতিক দল, সুস্পষ্ট মতাদর্শের অভাবে বারবার সেই সংগ্রাম বিফল হয়েছে। জনগণ হয়েছে প্রতারিত, হয়েছে আশাহত।
ঠিক এভাবেই হাজার বছর পেরিয়ে আজকের এই দিনে ১৯২০ সালে, বাংলার মাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় একটি ছোট্ট শিশু। তাঁর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখান। এই দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি গড়ে তুলেন শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। তিনি শোষনহীন সোনার বাংলা গড়ার উদ্দেশ্য জনগণকে পেশ করেন বলিষ্ঠ কর্মসূচি ও সুস্পষ্ট মতবাদ।
তিনি এদেশের মানুষের অধিকারের জন্য জীবনের ৪৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। তার রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তারপরও তিনি আপোষ করেননি। তিনি দিয়েছেন বাঙালির মুক্তির সনদ - ৬ দফা। তিনি এদেশের সকল মানুষকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার পথ তৈরি করে দিয়েছেন। তিনিই উচ্চারণ করছেন ইতিহাসের সেই অমর আহবান " এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
তিনি পাকিস্তানের শাসন থেকে এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে বাঙালিকে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন।
আর তাই আজকে আমরা স্বাধীন। আমার নাম সাকিব, আমার পরিচয় বাংলাদেশি। আমার একটা পাসপোর্ট আছে, আমার নিজস্ব একটি পতাকা আছে। আর সেই কারণেই তাঁকে বলা হয় - হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
আজকে ১৭ ই মার্চ। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আজকের এই দিনে জন্ম নেওয়া সেই ছোট্ট শিশুটিকে। যিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। যিনি আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক।
সাকিব আল হাসান (লেখক ও কলামিস্ট)



























