বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

ইমরোজ উদ্দিন তুষার

প্রকাশিত: ১২:০৪, ২৬ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের অপরাজনীতি

বাংলাদেশের অপরাজনীতি
ছবি: গ্রাফিক্স

জামায়াতের আমির সাহেবের একটা ব্যক্তব্য আমার চোখে পড়েছে 'কুটনীতিবিদের পিছন থেকে জড়িয়ে ধরা' নিয়ে। তিনি মোহাম্মদ স. এর উদাহরণ দিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করেছেন। সেটার আসলে দরকার ছিল না। এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা এবং কুটনৈতিকদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ এবং ভালো সম্পর্ক রাজনীতিতে তাদের আরও প্রাতিষ্ঠানিক করবে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি আমির সাহেবকে পছন্দ করি এবং তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমাকে যথেষ্ট সন্তুষ্ট করে অন্যসব বিরুধীদলীয় নেতা থেকে। একটা দায়িত্বশীলতার ছাপ থাকে যা আর কারো মাঝেই নেই। মনে হয় কিছু বলতে পারলেই হলো অন্যদের। 

বাংলাদেশে অপরাজনীতির শুরুটা করেছে এবং তা বিস্তৃত করেছে জামায়াত এবং তাদের সশস্ত্র সংগঠন ছাত্র শিবির। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তো এই গালিগালাজ, বিক্রিত ব্যক্তব্য, ভুয়া ভিডিও, কাটপিছ ভিডিও, সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট নিউজ, ভুয়া ফটোকার্ড, গুজব ছড়িয়ে দাওয়া এসব ছিল না। স্বৈরাচারী আওয়ামীও কখনো মির্জা ফখরুল কিংবা সালাউদ্দিন আহমেদের মত সজ্জন রাজনৈতিকে এভাবে গালিগালাজ করেনি। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়েছে এমনটাও কখনো ছিল না। রাজনৈতিক সমালোচনা সব সময় ছিল। কিন্তু এভাবে ব্যক্তিগত আক্রশের সূচনা জামায়াত এবং সশস্ত্র সংগঠন শিবিরই শুরু করেছে। তারেক রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক, রবিউল ইসলাম রবি, রুমিন ফারহানা (উনি মনে হয় বিএনপি থেকে বের হয়ে বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন), চরমানায়ে পীর এবং তার দল, মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, হারুন ইজাহার, রফিকুল ইসলাম মাদানী, মনির হোসেন কাশেমী, জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী মালেক, জসিমউদদীন রহমানী, জামায়াত বাদে সবদলের নারী নেত্রী কিংবা অরাজনৈতিক নারী নেত্রী (নাম উল্লেখ করলে তিন পেইজ হবে মনে হয়), জুনায়েদ আল হাবীব অসংখ্য। এবং আমি ক্ষুদ্র অতিক্ষুদ্র মানুষও তাদের নোংরা আক্রমণ থেকে রেহাই পাইনি। 

জামায়াত তাদের মেইন ব্রকাল হিসাবে হাজির করেছে র এর প্রতিষ্ঠিত এজেন্ট পানাকীকে এবং তথ্য সন্ত্রাসী ইলিয়াসকে। এরা প্রতিনিয়ত জামায়াতকে ভুল পথে দাবিত করেছে। এবং পুরো দলকে অর্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিনত করেছে। জামায়াতের যেই দীর্ঘদিন থেকে রাজনৈতিক চর্চা এবং তা জনবান্ধন ছিল তা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলেছে। 

রাজনীতির এই বেহাল পরিস্থিতির জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশপন্থী নিরিহ শক্তিটাও কিছুটা আগ্রেসিভ হয়ে উঠেছে। আগ্রেসিভ না হয়েও উপায় ছিল না কিংবা তার জবাব তো অন্তত দিতে হতো। তাই তারা বিক্ষিপ্ত ভাবে এসবের উত্তর দাওয়া শুরু করে। তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল, সালাউদ্দিন আহমেদকে যেভাবে গত দেড় বছর এবং বর্তমান পর্যন্ত যেভাবে গালিগালাজ চলছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। বিএনপির প্রায় আট ভাগের এক ভাগ শক্তি নিয়ে যখন একটা দল এভাবে তাদের মেইনস্ট্রিমকে আক্রমণ করে তখন তার প্রতিবাদে রাজনীতি সংঘর্ষপূর্ন হওয়ার বিকল্প নাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন, ধর্মীয় সম্প্রতি, রাজনৈতিক সম্প্রতি, সামাজিক বন্ধন সব কিছুতেই আঘাত করছে ঐ ক্ষুদ্র শক্তিটা। আমি যদি ৬-৮% অংশটাকে বাদ দিয়ে বাকি ৯২% মানুষের বাংলাদেশ চিন্তা করি তবে নিশ্চয়ই প্রতিরোধ সময়ের দাবী। 

মূল কথায় ফিরি, আমির সাহেবের কুটনৈতিকদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের আমি প্রসংশা করি। কিন্তু যদি তার রাজনৈতিক দলটি এভাবে সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নেয় তবে পুরো বাংলাদেশ দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। উনার যদি দলের প্রতি নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাবে দ্রুতই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আমি আশা করি উনি দ্রুতই দল পুনঃগঠনে মনযোগী হবেন। এখন প্রশ্ন হলো, উনার দলের প্রতি নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা?

ইমরোজ উদ্দিন তুষার, কবি এবং রাজনৈতিক কর্মী