শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৪, ৮ আগস্ট ২০২৬

সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী স্মারক সরানোয় নাহিদের ক্ষোভ

সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী স্মারক সরানোয় নাহিদের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জুলাই জাদুঘর’ থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও উপাদান সরিয়ে ফেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোনো দলীয় বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে বৈদেশিক শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্কের বিষয়টি ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমান জাদুঘরের উপস্থাপনায় সেই বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি। পুরো জাদুঘর ঘুরে দর্শকদের এমন ধারণা হতে পারে যে, গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ কেবলই একটি দেশীয় বিষয় ছিল; অথচ এর পেছনে বৈদেশিক শক্তির বিভিন্ন মাত্রার সম্পৃক্ততা ছিল। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে জাদুঘরে দৃশ্যমান রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে জাদুঘরে কিছু পরিবর্তনের বিষয়টি তার চোখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে রাখা ভাস্কর্যসহ বেশ কিছু উপাদান বর্তমানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ সময় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, "ইতিহাসের অংশ হলে সেগুলো কেন থাকবে না?"

অন্যদিকে, জাদুঘরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো গত ১৬ বছরের নির্যাতনের তথ্য ও প্রদর্শনী বেড়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তবে এর সঙ্গে কিছুটা দলীয় বক্তব্য ও বয়ানও যুক্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

গণভবনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নির্যাতন, নির্মমতা ও স্বৈরতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (৩৬ জুলাই) ছাত্র-জনতা এই ভবনে প্রবেশ করে একে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে বিজয় উদযাপন করেছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, অর্থনৈতিক লুটপাট ও মানুষের ওপর নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে এই ভবনের ভূমিকা এবং এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ইতিহাস স্মরণে রাখার জন্যই স্থানটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়েই জাদুঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছিল এবং তা উদ্বোধনের উপযোগী হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অধীনে এটি খুলতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগলেও, জাদুঘরটি দ্রুত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার তাগিদ তারা সবসময়ই দিয়ে আসছেন। জাদুঘর একটি চলমান ও পরিবর্তনশীল প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রদর্শনী ও উপস্থাপনা আরও সমৃদ্ধ করতে বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছেন এবং নিজের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণগুলো তাদের কাছে তুলে ধরেছেন।

জনপ্রিয়