সমর্থকদের হতাশায় সমব্যথী লিভারপুল কোচ
প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলের বিপক্ষে ম্যাচ। আক্রমণে ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য, কিন্তু গোলের সামনে ব্যর্থতা—এই দুই মিলিয়েই অ্যানফিল্ডে হতাশার রাত কাটাল লিভারপুল। ৩২টি শট নিয়েও মাত্র একটি গোল, শেষে হজম করা এক গোল—ফলে বার্নলির বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র। এমন পারফরম্যান্সে গ্যালারিজ থেকে নেমে আসে দুয়োধ্বনি। আর সেই হতাশাকে ‘পুরোপুরি যৌক্তিক’ বলেই মানছেন লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে স্লট বলেন, এটি শুধু দুয়োধ্বনি নয়, বরং জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর ভাষায়, “লিভারপুলের মতো দল হয়ে ঘরের মাঠে বার্নলির বিপক্ষে ড্র করলে হতাশা হওয়াই স্বাভাবিক। যদি হতাশ না হই, তাহলে কোথাও বড় ভুল আছে। ভক্তদের অনুভূতি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি—আমি ও খেলোয়াড়রাও সমানভাবে হতাশ।”
এই ড্রয়ের ফলে চলতি মৌসুমে লিগে উন্নীত তিনটি দলের বিপক্ষেই অ্যানফিল্ডে জিততে ব্যর্থ হলো লিভারপুল। শেষ চার লিগ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র একটি। টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকলেও পাঁচে থাকা ম্যানইউর চেয়ে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট—যা চাপ বাড়াচ্ছে অলরেডদের ওপর।
ম্যাচে প্রথমার্ধে ফ্লোরিয়ান উইর্টজের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মার্কাস এডওয়ার্ডস গোল করে বার্নলিকে সমতায় ফেরান। বল দখলে (৭৩%) ও সুযোগ সৃষ্টিতে পুরো ম্যাচেই এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। গোলের দিকে রেকর্ড ৩২টি শট নেয় লিভারপুল—এর মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। এক্সপেক্টেড গোল (xG) দাঁড়ায় ২.৯৫, যা এই মৌসুমে তাদের সর্বোচ্চ।
তবে প্রতিপক্ষের লড়াইও স্বীকার করতে ভোলেননি স্লট। তিনি বলেন, “বার্নলি যেভাবে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেছে এবং শেষ পর্যন্ত গোল ঠেকাতে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব প্রাপ্য।”
স্লটের মতে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল লিভারপুলের হাতেই। ঝুঁকি নিয়ে আক্রমণ করলেও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়নি—এটাকে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।



























