শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ৬ মার্চ ২০২৬

টি-টোয়েন্টির ইতিহাস সেরা ১০ অলরাউন্ডার

টি-টোয়েন্টির ইতিহাস সেরা ১০ অলরাউন্ডার
ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট হলো টি-টোয়েন্টি। ২০ ওভারের এই দ্রুততম ক্রিকেটের আবির্ভাবের পর থেকেই এটি ভক্তদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতার গতিশীলতা এবং চরম উত্তেজনা এই ফরম্যাটকে আলাদা করে তোলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স অনুযায়ী র‌্যাংকিং হালনাগাদ করে।

টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিং নির্ধারণের পদ্ধতি বেশ অভিনব। একজন খেলোয়াড়ের ব্যাটিং এবং বোলিং রেটিংয়ের গুণফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে মোট রেটিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। এই হিসেব অনুযায়ী যারা ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে অনন্য কিছু তারকা অলরাউন্ডার।

ইতিহাসের সেরা টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডাররা

১। শেন ওয়াটস : শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র পেস-বোলিং অলরাউন্ডার এবং একমাত্র খেলোয়াড় যার রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছে। ২০১২–২০১৩ পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময় ৪০০-এর ওপরে রেটিং ধরে রেখেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭০ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ৫৬৬ পয়েন্টে পৌঁছান। তখন ব্যাটিং রেটিং ৮৪৭, বোলিং রেটিং ৬৬৯।
২। মোহাম্মদ হাফিজ : পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার মূলত ব্যাটসম্যান ছিলেন। শুরুতে খণ্ডকালীন অফ-স্পিন করেছিলেন, পরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শীর্ষ অলরাউন্ডারে পরিণত হন। ২০১৩ সালে ৪৫২ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন।

৩। শহীদ আফ্রিদি : বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং কার্যকর লেগ স্পিন—আদর্শ টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার। ২০০৯ বিশ্বকাপে ১৭৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিউজিল্যান্ড সফরে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪৩৭ রেটিং পয়েন্ট স্পর্শ করেন।

৪। সাকিব আল হাসান : বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক। ২০১৪–২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত একবার টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান সিরিজে সর্বোচ্চ ৪২০ রেটিং পয়েন্টে পৌঁছান।

৫। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল : অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অলরাউন্ডার, বর্তমানে সক্রিয়। ২০১৬ সালে শ্রীলংকা সিরিজে দুটি ধারাবাহিক ইনিংস (১৪৫ ও ৬৬) খেলেই ৩৭৫ রেটিং পয়েন্টে শীর্ষে উঠেছিলেন।

৬। সনাৎ জয়াসুরিয়া : নব্বইয়ের দশকে শ্রীলংকার ওয়ানডে পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে ২৪তম ম্যাচের পর জয়াসুরিয়ার রেটিং ৩৬৬-তে পৌঁছায়।

৭। যুবরাজ সিং : টি-টোয়েন্টির প্রাথমিক সময়ের ‘পোস্টার বয়’। ২০০৭ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কার দাপট। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ৩৬৩ রেটিং পয়েন্টে পৌঁছান।

৮। মোহাম্মদ নবী : আফগানিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার। ২০১৮–২০২২ সালের মধ্যে কয়েকবার টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রেটিং পয়েন্ট ৩৬১।

৯ । ডেভিড হাসি : মূলত ব্যাটসম্যান হলেও পার্ট-টাইম বোলিং দিয়েই র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় পৌঁছান। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর ৩৩৭ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন।

১০। সিকান্দার রাজা : জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩২৮ রেটিং পয়েন্টে শীর্ষে উঠে গেছেন। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশের মধ্যে তিনি প্রথম ক্রিকেটার যিনি ৩০০০ রান এবং ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।