বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৯, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ইতিহাস গড়ার ম্যাচে পিএসজির হতাশার হার

ইতিহাস গড়ার ম্যাচে পিএসজির হতাশার হার
ছবি: সংগৃহীত

লিসবনের রাতে সবকিছুই যেন পিএসজির অনুকূলে ছিল—বল দখল, নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস। তবু শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে যে বাস্তবতা ভেসে উঠল, তা ছিল নির্মম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্পোর্টিং সিপির কাছে ২–১ গোলে হেরে গিয়ে বড় ধাক্কাই খেল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ। এই হার তাদের সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার স্বপ্নকে ঠেলে দিল অনিশ্চয়তার গভীরে।

ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন স্পোর্টিংয়ের কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। দ্বিতীয়ার্ধে তার জোড়া গোলেই ঘরের মাঠে উল্লাসে মাতেন স্বাগতিক সমর্থকেরা। বিশেষ করে ৯০ মিনিটে করা তার হেডার গোলটি ছিল পিএসজির জন্য একেবারে শেষ মুহূর্তের দুঃস্বপ্ন। এর আগে বদলি হিসেবে নেমে ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে পিএসজির হয়ে সমতা ফেরান খভিচা কভারাতস্কেলিয়া, কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি।

এই ম্যাচের ফলাফলের প্রভাব পড়েছে পয়েন্ট টেবিলেও। রিয়াল মাদ্রিদ ও টটেনহ্যামের জয়ের পর ১৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে পিএসজি। খুব কাছেই রয়েছে স্পোর্টিং। ফলে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে। আট দিনের মধ্যে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচই ঠিক করে দেবে পিএসজির ভাগ্য। সেই ম্যাচে হার মানে ফেব্রুয়ারিতে দুই লেগের প্লে-অফের কঠিন পরীক্ষায় নামা।

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকোনোর চেষ্টা করেননি পিএসজি কোচ লুইস এনরিক। তিনি বলেন,
‘এই মৌসুমে এটাই আমাদের সেরা অ্যাওয়ে ম্যাচ। ফলটা হতাশাজনক এবং একেবারেই অন্যায্য। লজ্জার বিষয়, কারণ পুরো ম্যাচে আমি একটাই দল দেখেছি। আমরা খুব ভালো একটি দলের বিপক্ষে আরও ভালো খেলেছি। এটা সত্যিই হতাশার।’

পুরো ম্যাচজুড়ে দাপট দেখালেও পিএসজির বড় সমস্যা ছিল শেষ তৃতীয়াংশে। বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তারা খুব একটা তৈরি করতে পারেনি। বক্সের আশপাশে আক্রমণে ছিল ভঙ্গুরতা, আর পরিকল্পনাও ছিল অনেকটাই অনুমেয়। লিসবনের সংগঠিত রক্ষণভাগ সেটাই নিখুঁতভাবে কাজে লাগায়।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৭৪ মিনিটে সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে যায় স্পোর্টিং। পাঁচ মিনিট পর কভারাতস্কেলিয়ার গোলে সমতায় ফেরে পিএসজি। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও সুয়ারেজ আঘাত হানলে সব হিসাব বদলে যায়।

এই হারের ফলে শীর্ষ আটে থাকার লড়াইয়ে পিএসজির অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি যেতে হলে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।