মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া বিলের কারসাজি প্রমাণিত, শাস্তি শুধু তিরস্কার!

ভুয়া বিলের কারসাজি প্রমাণিত, শাস্তি শুধু তিরস্কার!
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে খালি বিল-ভাউচার সংগ্রহ করে অফিসের কর্মচারীদের দিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির প্রোগ্রামার মো. হোসেন বিন আমিনকে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে শুধু ‘তিরস্কার’ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

বিসিসির নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

 

আদেশ অনুযায়ী, হোসেন বিন আমিন রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের তৎকালীন সেন্টার-ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশিক্ষণ কোর্সগুলোর আপ্যায়ন ব্যয়ের বিল তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, তিনি বিভিন্ন দোকান থেকে খালি বিল-ভাউচার এনে অফিসের কর্মচারীদের মাধ্যমে সেগুলোতে বিল প্রস্তুত করতেন।

 

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের আদেশেও খালি ভাউচার এনে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত না করে তিনি অধিকাংশ প্রশিক্ষণে নিজেই প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। একই দিনে দুটি কোর্সে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে উভয় কোর্স থেকেই সম্মানী নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০০২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৮ জুন তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তাঁর জবাব, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে একই প্রবিধানমালার ৩৭(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে দণ্ড হিসেবে ৩৮(১)(ক)(অ) অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে ‘তিরস্কার’।

 

আদেশে বলা হয়েছে, এ দণ্ড অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিল-ভাউচার তৈরির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হলেও ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ না পাওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তিরস্কার দণ্ডে নিষ্পত্তি হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিতর্কিত এই কর্মকর্তা একাই দখল করে আছেন পাঁচটি পদ। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত এসব দায়িত্বে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন। একাধিক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ২০০৯ সালে তৎকালীন এক মন্ত্রীর সুপারিশে চাকরি পান মো. হোসেন বিন আমিন। এরপর থেকেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তার প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধা কমেনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বরং বর্তমানে নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মো. হোসেন বিন আমিন বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের কোণঠাসা করে রাখতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একইভাবে স্বপদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংবাদ পরিক্রমার পক্ষ থেকে মো. হোসেন বিন আমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কথা বলতে ইচ্ছুক নই।”

জনপ্রিয়