বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:০২, ৮ অক্টোবর ২০২৬

শাহরাস্তি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মাদক কারবারি ইমরান মনির

শাহরাস্তি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মাদক কারবারি ইমরান মনির
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মাদক কারবারের অভিযোগ থাকা ইমরান মনিরকে দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমরান মনির দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় তিনি ‘মাদক বাদশা’ নামে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদপুরে নিজেদের মাদক সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী করতেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিনের প্রভাব ও সুপারিশে ইমরান মনিরকে শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে ইমরান মনিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, মাদক কারবারের অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে অপরাধী চক্রগুলো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পাবে। এতে শাহরাস্তিতে মাদকের বিস্তার আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে স্থানীয় কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও মাদক কারবারির যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ওই ঠিকাদার স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন। এমনকি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাদক কারবারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তিকে কীভাবে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনা হলো এবং তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে তরুণ সমাজের। তাই ইমরান মনিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ইমরান মনিরের বক্তব্যসংবলিত একটি অডিও রেকর্ডও সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের কাছে রয়েছে। ওই অডিওতে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইমরান মনিরের বক্তব্য পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়