সোমবার ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ১ মার্চ ২০২৬

ঢাকায় ছিনতাই বেড়েছে ৩০%

ঢাকায় ছিনতাই বেড়েছে ৩০%
প্রতীকি ছবি (সংগৃহীত)

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছিনতাইয়ের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

রবিবার (০১ মার্চ) কালের কণ্ঠ–এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার ভোর ৫টার দিকে শাক-সবজি আনতে রিকশা-ভ্যান নিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন ফয়জুর রহমান নামের এক বৃদ্ধ। জুরাইনের মুন্সিবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার গলি থেকে বেরিয়ে আসা তিন যুবক ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩০৮টি ছিনতাইয়ের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলা বা জিডি না করার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘটিত ছিনতাইয়ের ৬৫ শতাংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, ২০ শতাংশ সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এবং ১৫ শতাংশ ছদ্মবেশে বা কথার ছলে বিভ্রান্ত করে সংঘটিত হচ্ছে। রাজধানীতে শতাধিক ছিনতাই স্পট বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মিরপুর ও মোহাম্মদপুরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও বেশ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। 

যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীর বাসিন্দা শাহাদত হোসেন জানান, প্রায় দিনই সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারী ও টানা পার্টির সদস্যরা। ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে কিছু তরুণ চাকু দেখিয়ে মোবাইল ফোনসেট ও টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া বাসের জানালার কাছে বসে মোবাইল ফোনে কথা বললে ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যাচ্ছে। রিকশায় থাকা নারীদের কানের দুল, মালা টেনে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে কয়েকটি প্রধান জোনে ভাগ করা হয়েছে। উত্তরা ও বিমানবন্দর অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের লেকপার, হাউস বিল্ডিং এলাকা, বিমানবন্দর গোলচত্বর এবং কাওলা এলাকা। মিরপুর ও গাবতলী অঞ্চলের আওতায় মিরপুর-১, ১০ ও ১২ নম্বর গোলচত্বর, টেকনিক্যাল মোড়, গাবতলী বাস টার্মিনালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এবং কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা। তেজগাঁঁও ও ফার্মগেট অঞ্চলে রয়েছে কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং, তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়, ফার্মগেট ফুট ওভারব্রিজ এবং বিজয় সরণি মোড়। মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডি অঞ্চলে রয়েছে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, তিন রাস্তার মোড়, নবোদয় হাউজিং এলাকা, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর ও লেকসংলগ্ন নির্জন এলাকাগুলো। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ অঞ্চলের মধ্যে বেশি অনিরাপদ সায়েদাবাদ জনপথ মোড়, যাত্রাবাড়ী মোড়, শনির আখড়া এবং দোলাইরপাড় মোড় এলাকা।

নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর ছিনতাই রোধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছিনতাই রোধে এপিবিএন সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ থানাগুলোতে রাতের টহল ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ারী বিভাগের পুলিশের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছিনতাই স্পটগুলোতে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। অনেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে। কিন্তু থানায় মামলা না করায় আমাদেরও ঝামেলায় পড়তে হয়। গ্রেপ্তারের পর জেলে পাঠানো হলেও তারা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়ায়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সিসিটিভির অভাব এবং আইনি দুর্বলতার কারণে ছিনতাই বাড়ছে। পুলিশ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ছিনতাইয়ের শিকার হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

সর্বশেষ