সাভারে ধর্ষণ মামলার বাদীর বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা, আসামি ২১
সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদীকে এবার মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে করা এ মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; বাকি ১৫ জন অজ্ঞাতনামা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীর (৫০) বড় ছেলে মো. উমায়ের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন।
পুলিশ জানায়, মামলায় মাদ্রাসা থেকে নগদ ৪৭ লাখ টাকা, ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, সাত লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় নাম উল্লেখ করা ছয়জনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বাদী ওই শিক্ষার্থীর দাদাও রয়েছেন। পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে লুটপাটের মামলায় আসামি না করতে তাঁরা নিষেধ করেছিলেন। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আসামি করেছে। তদন্ত ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
নতুন মামলার বাদী মো. উমায়ের নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনা সহকারী দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ওই রাতে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
উমায়ের বলেন, ‘ধর্ষণের যে মামলাটি করা হয়েছে, সেটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ওই রাতে আমাদের মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, মাদ্রাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা ভাঙচুর করে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে একটি পক্ষ মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেন উমায়ের।
অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার না করায়ও অসন্তোষ জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গত বুধবার ধর্ষণের অভিযোগটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় এলাকাবাসী মাদ্রাসাটি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সে সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানার দিকে রওনা হন পুলিশ সদস্যরা। এরপর এলাকাবাসী দ্বিতীয় দফায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালান এবং ভেতরে থাকা মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নতুন মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে আসামি করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। দুই মামলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।



























