বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

নাগেশ্বরীতে দুধকুমর নদের বাঁধ কেটে বালু বিক্রি, প্রশাসন নিরব

নাগেশ্বরীতে দুধকুমর নদের বাঁধ কেটে বালু বিক্রি, প্রশাসন নিরব
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদের পশ্চিম পাড়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) খননকৃত বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় জাকারিয়া হোসেন ও আমিনুল ইসলাম। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদের যে সব স্থানে ঘনবসতি, স্থাপনা ও ফসলি জমি রয়েছে, ঠিক সেসব জায়গাতেই নির্বিচারে বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদীর পশ্চিম পাড়ের খননকৃত বাঁধ থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রলি, থ্রি-হুইলার, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম। প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এমনকি গাড়ির হিসাব রাখার জন্য নদীর পাড়ে তাঁবু খাটিয়ে লোক বসিয়ে রাখা হয়েছে।

শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম, আ. করিম, মোজাফফর হোসেন, মাইদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের জামাল হোসেন মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া হোসেন নিজেকে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে বালু বিক্রি করছে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয়রা অবিলম্বে নদীর বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকারিয়া হোসেন বলেন, “আমি বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা। এখন সময় আমাদের, ক্ষমতাও আমাদের। আমরাই তো টাকা উপার্জন করবো। কাউকে গোনার সময় নেই।”

বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জামাল বলেন, “দুধকুমার নদী ভাঙনের ফলে বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রি বন্ধ না হলে শিমুলতলা ও ফান্দেরচরের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

বল্লভেরখাস ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে বালু কাটা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পুনরায় বালু কাটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে।”

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, “অবৈধভাবে নদীর বাঁধ থেকে বালু কেটে বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন,
“বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রির ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”