বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৬, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গণতান্ত্রিক নয়: চার ব্রিটিশ এমপির

সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গণতান্ত্রিক নয়: চার ব্রিটিশ এমপির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের চার সদস্য। তারা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না।

এই চার ব্রিটিশ এমপি হলেন— বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল ও ক্রিস ল।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নৈতিক বিবেচনাবোধসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তা তখনই সম্ভব হবে, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা ও দলটির নিবন্ধন স্থগিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে চার এমপি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন যে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।”

তারা আরও সতর্ক করে বলেন, “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তারা ভোট দিতেই যাবেন না।”

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হয়নি—যারা নিজেরাই অনির্বাচিত।”

বাংলাদেশের রাজনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘চরমভাবে বিভক্ত’ উল্লেখ করে চার ব্রিটিশ এমপি বলেন, “এর দায় বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলেরই কিছু না কিছু রয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে এবং থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আবার গতিশীল করতে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।”

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।”

সবশেষে তারা ব্রিটিশ সরকার ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেন গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করেন এবং একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”