বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খুলনা ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার মৃত্যু

খুলনা ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে দুইপক্ষের উত্তেজনা ও হট্টগোলের মাঝে বিএনপি নেতার মৃত্যু ঘটে। মৃত ব্যক্তি মহিবুজ্জামান কচি, যিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, মহিবুজ্জামান কচি কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ পড়ে এবং তিনি মারা যান।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল এবং সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণা করছিলেন। যখন তাকে বাধা দেওয়া হয়, তখন তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে মহিবুজ্জামান কচি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান।

অন্যদিকে, খুলনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি কেন্দ্রের বাইরে ভোট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু মহিলাকে বের করতে বলেছিলেন, কিন্তু কাউকে ধাক্কা দেননি।

খুলনা-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ঘটনা কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। মহিবুজ্জামান কচি অসুস্থ ছিলেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর তার হৃৎপিণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে মৃত্যু ঘটে। তিনি বলেন, অভিযোগ মানেই বিষয়টি সঠিক নয়, তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে, তাই এটি তার বিষয় নয়। খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সকালে কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিএনপিতে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। তারা প্রিন্সিপাল ও সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। উত্তেজনা ভিডিওতে দেখা গেছে, তবে তিনি পড়ে গেছেন এমন ভিডিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় খুলনার ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা এবং প্রার্থীদের সমর্থকদের উপস্থিতি নজরে এসেছে। প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারে।