পাকা সড়ক খুঁড়ে ইটের সলিং
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি পিচ ঢালাই সড়কের খণ্ড খণ্ড স্থানে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়ক খুঁড়ে ইটের সলিং বসানোর কাজ চলছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীন সাড়ে ৮শ’ মিটার ওই সড়কে দুই স্তরে ইটের সলিং স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। গর্ত মেরামত না করেই বিশাল অর্থ ব্যয়ে পিচ রাস্তা খুঁড়ে ইট বসানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যা অপ্রয়োজনীয় ও অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিন সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, কালীগঞ্জ-গান্না সড়কে শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলাইপুর পর্যন্ত পাকা সড়কটিতে পিচের অংশ খুঁড়ে দুই স্তরের ইট বিছানো হচ্ছে। কাজটি করছে ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গামা কনস্ট্রাকশন।
সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী পথচারীদের ভাষ্য, সড়কটির কিছু কিছু স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও বেশির ভাগই চলাচলের উপযোগী ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা মেরামত না করেই পাকা রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং বসানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের চলাচলের অনুপযোগী অংশটুকু সহজে এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে সংস্কার করা সম্ভব ছিল। সরকারের বিপুল টাকা নয়-ছয় করতেই অহেতুক পিচের রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং করা হচ্ছে।
সড়ক সংলগ্ন ধান ব্যবসায়ী তুহিন হোসেন জানান, সড়কটির কিছু কিছু স্থানে সামান্য নষ্ট হয়েছিল। যা ভরাট বা পুটিং করাও যেত। কিন্তু গত এক মাস আগে থেকে চলাচলের উপযোগী পাকা সড়কটি খুঁড়ে নতুন ইটের সলিং বসানো হচ্ছে। এতে চালক ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
ইজিবাইক চালক আলিম হোসেন জানান, ভাল পিচ ঢালাই সড়ক খুঁড়ে ইট বসানোতে টাকার শ্রাদ্ধ করা হচ্ছে। এভাবে ইট বসিয়ে রাস্তা না করে পুটিংয়ের মাধ্যমে ভরাট করে দিলেই ভালো হতো। এটি সরকারি অহেতুক অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
ঠিকাদার গামা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী গোলাপ হোসেন মেম্বার বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছুই করার নেই। তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। টেন্ডারের উল্লিখিত সব অংশেই তাঁকে ইট বসাতে হবে।
তিনি জানান, পাকা পিচ খুঁড়ে ইটের সলিং বসানোর চলমান কাজটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।
কালীগঞ্জ সওজ কার্যালয়ের এসও অপূর্ব বিশ্বাস জানান, এটি তাদের একটি চলমান প্রক্রিয়ার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। বর্ষার পানিতে সড়কের অনেক স্থানই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। তবে ভালো রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং করা হচ্ছে- স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি।
সূত্র: সমকাল



























