বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবাবগঞ্জে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

নবাবগঞ্জে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন মালদহ গ্রামে নিখোঁজ মো. মফিদুল ইসলাম (৪০)-এর মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মালদহ গ্রামের মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে।

নিহত মফিদুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং মামলার বাদী মো. লিটন মিয়ার বড় ভাই। গ্রেপ্তারকৃত আসামি নিহতের প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত ছিলেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর তার নিখোঁজের বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালায়।

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে আসামি মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের নিকট একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে মফিদুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ মো. মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টায় মফিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়