বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন

জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন
ছবিঃ প্রতিনিধি

জলাবদ্ধতা, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার মতো উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ৫০টি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

কর্মসূচিতে আম, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির চারা রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার সুবিধার্থে পাশে ছোট ছোট সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবী তরুণেরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

রোপণ করা গাছগুলো শুধু লাগিয়ে রাখাই নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে যুব পানি কমিটি। 

সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত পলি জমা এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি কার্যকর নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ে। 

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি। 

যুব পানি কমিটির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ, নদী ও খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। 

যুব পানি কমিটির সদস্যরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন ও টিআরএম কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। 

এ ছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়