মৃত্যুর আগে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ৫টি নোটে যা লিখেছেন
প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক চ্যাটার্জি তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার অনুরোধ করেন। শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি শরীরের রোগ-যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলাম না। সুস্থ থাকার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ভারতের ভেলোর পর্যন্ত ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি।
পুলক লেখেন, অসুস্থতা আমাকে সামাজিকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছিল। শরীরের যন্ত্রণার সময়ে কোথাও যেতে পারতাম না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, কোনও প্রকার হয়রানি না করে আমার লাশ আমার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশে লেখা নোটে তিনি তাদের কাছে ক্ষমা চান। মেয়েকে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্ত্রীকে ছোট ভাই দীপকের সঙ্গে থাকার অনুরোধ করে তিনি লিখেছেন, দীপক তাদের আগলে রাখবে।
স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশে পুলক লিখেছেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতি, তুমি পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যেও। প্রিয়াংকা, আমার অনুপস্থিতি তোমার জীবনে পূরণ হওয়ার নয়। তারপরও কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। তোমার দীপক (চান) ভাইয়ের সঙ্গে থেকো। দীপক তোমাকে আগলে রাখবে।’
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে পুলক চ্যাটার্জি লিখেছেন, ‘বিদায়। তোমার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। আমার মরদেহ হয়রানি ছাড়া পরিবারের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করো। যেহেতু স্বেচ্ছায় আত্মহনন করলাম, তাই ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন নেই। পারলে তোমার বউদি ও প্রকৃতির মাঝে মাঝে খোঁজ নিও।’
ভাই দীপক ও তার স্ত্রী ইতির উদ্দেশে পুলক লিখেছেন, ‘বিদায়। প্রিয়াংকা ও প্রকৃতিকে আগলে রাখিস। তোর ওপর অনেক বড় বোঝা চাপিয়ে দিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিস। মুক্তিযুদ্ধের ভাতা ও আমার ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে দেবাশীষের সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নিস। প্রিয়াংকা ও প্রকৃতিকে তোর কাছে রাখিস।’
পুলক তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘সুমন, বিদায়। তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। একসঙ্গে প্রায় দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও। যদি পারো, সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।’
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পুলিশ পুলকের মরদেহ সমকাল বরিশাল অফিস থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর আগে সন্ধ্যায় নগরের প্যারারা রোডের সমকাল ব্যুরো অফিসে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমকাল অফিসের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। মাঝে মাঝে তিনি সমকাল অফিসে এসে বসতেন। পুলক চ্যাটার্জি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন।



























