রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটে দুই পৃথক ঘটনায় শোকের ছায়া, শিশু থেকে যুবক

বাগেরহাটে দুই পৃথক ঘটনায় শোকের ছায়া, শিশু থেকে যুবক
ছবিঃ প্রতিনিধি

রোববার বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই চাচাতো বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং একই দিনে ফকিরহাটে এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়াতলা গ্রামে এবং ফকিরহাট উপজেলার হোচলা গ্রামে দুটি ভিন্ন ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনপদকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

প্রথম ঘটনায় মোল্লাহাটের দারিয়াতলা গ্রামের মাছের ঘেরে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই চাচাতো বোন ১১ বছরের জান্নাতি এবং ৮ বছরের লামিয়ার। নিহত জান্নাতি স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাইন শেখের কন্যা এবং লামিয়া মোস্তাক শেখের কন্যা। সকালের দিকে পরিবারের অজান্তে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে তারা শাপলা তুলতে নামে এবং অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

অন্যদিকে একই দিনে ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের হোচলা গ্রামে সুজন শেখ নামের ২৩ বছরের এক ভ্যানচালকের মরদেহ তার নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, সকালে ঘেরে মাছের খাবার দেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন পানিতে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেন এবং দ্রুত উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

অপরদিকে ফকিরহাটের ঘটনায় ভ্যানচালক সুজন শেখের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক বা মানসিক কোনো চাপ কাজ করছিল কি না তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নিহত সুজনের স্ত্রী হোসনেআরা বেগম ভোররাতে ঘুম থেকে জেগে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরিবারের দাবি এটি আত্মহত্যা হলেও একজন তরুণ কর্মক্ষম যুবকের এমন আকস্মিক প্রস্থান মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানাসমূহের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মোল্লাহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে মাছের ঘের বা পুকুরের চারপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা এবং শিশুদের চলাচলের ওপর নজরদারির অভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুগুলো কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি সামাজিক ও পারিবারিক স্তরে সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তীব্রভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়

সর্বশেষ

জনপ্রিয়