শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওসির ফ্ল্যাটে নারীসহ অবস্থান, দরজায় ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’

ওসির ফ্ল্যাটে নারীসহ অবস্থান, দরজায় ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে ফ্ল্যাট থেকে ওসি মাহবুব আলম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে (সাবেক ওসি) নারীসহ আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও ওই নারীকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়। মাহবুব চন্দ্রিমা থানার সাবেক ওসি, বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত। 

ওসি মাহবুব দাবি করেন, ফ্ল্যাটে থাকা ওই নারী তার স্ত্রী। তবে দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি তিনি। 

অন্যদিকে একই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নামে এক নারী নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগে সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুদিন পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

আন্নি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি জানতে পারেন- মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের জানান, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন। তবে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চারদিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। 

তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।  

চন্দ্রিমা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়